ধনবাড়ী পৌরসভা বাংলাদেশের ঢাকা বিভাগের টাঙ্গাইল জেলার ধনবাড়ী থানায় অবস্থিত। এটি রাজধানী ঢাকার ১৫৭ কিঃমিঃ (৩ ঘন্টা ১০ মিঃ গাড়ির দূরত্ব) উত্তরে। “ঢাকা-জামালপুর” মহাসড়ক, এই পৌরসভার ভিতর দিয়ে গিয়েছে। মোট আয়তন ২৪.৮৯ বর্গ কিলোমিটার। এটির আছে ০৯টি ওয়ার্ড, ৩৫টি গ্রাম/মহল্লা, ১১টি মৌজা এবং ৫০,৭০৯ জনসংখ্যা (প্রায়) এবং দ্রুত বাড়ছে। প্রতিষ্ঠাকালে “গ” শ্রেণিভূক্ত হলেও বর্তমান পৌর-পরিষদের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় ২৬ মে ২০১১ খ্রি: তারিখে পৌরসভাটি “খ” শ্রেণিতে উন্নীত হয়।
১৫৯৯ সালে বার ভূঁইয়াদের নেতা ঈসা খাঁর মৃত্যুর পর মোগল সম্রাটের সেনাপতি মানসিংহ বার ভূঁইয়াদের দমন করার জন্য গজরল খাঁকে প্রেরণ করেন। এই যুদ্ধে গজরল খাঁর মৃত্যুর পর তার দুই পুত্র ইস্পিঞ্জার খাঁ ও মনোয়ার খাঁ রাজা যশোধর সিংহের দুই কন্যাকে বিবাহ করে প্রথমে সেনবাড়ী ও পরে আমনগ্রাম নামক স্থানে (বর্তমান ধনবাড়ী উপজেলার অর্ন্তগত) পরীখা নির্মাণ করে বসবাস করতে থাকেন। এই এলাকা নিরাপদ নয় ভাবিয়া পরে ইস্পিঞ্জারপুরে শক্তিশালী পরীখা তৈরী করেন। এদিকে ফলদার রাজা যশোধর ইস্পিঞ্জার খাঁ ও মনোয়ার খাঁকে পরাস্ত করতে ব্যর্থ হয়ে দিল্লীশরের শরনাপন্ন হন। দিল্লীর মোগল সুবাদার ইসলাম খাঁ ইস্পিঞ্জার খাঁ ও মনোয়ার খাঁকে দিল্লীতে তলব করেন। পরে রাজা যশোধর সিংহের কন্যাদয় এবং খাঁ ভ্রাতৃদ্বয়ের ব্যবহারে মুগ্ধ হয়ে খাঁ ভ্রাতৃদ্বয়কে মুক্তি দেন এবং পুকুরিয়া পরগনার দায়িত্ব দেন। পুকুরিয়া পরগনা দখল করার পর খাঁ ভ্রাতৃদ্বয় মোগল অধিকার রক্ষায় শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়িয়া তোলেন। মোগল বাদশাহের নির্দেশে তাহারা তখন ধনপত সিংহের রাজধানী ধনবাড়ীতেই রাজধানী স্থাপন করিয়া বসবাস করিতে থাকেন। ধনপত নামের ঐতিহ্যকে ধরে রেখেই টাংগাইলের মাটি মহাকালের অমর গৌরব গাথা বক্ষে ধারন করে আদিকাল থেকে সারাদেশে আলোচিত হয়ে আছে “ধনবাড়ী”।